UPSC: এক জন তৃতীয়, অন্য জন ২১, ইউপিএসসি-তে তাক লাগিয়ে দিলেন দিল্লির দুই বোন অঙ্কিতা-বৈশালী

UPSC: প্রায় রোজই ঘরের জানলা দিয়ে রাস্তার ধারে চোখ গেলে দেখতো সে, তার বয়সি ছেলেমেয়েগুলি ফুটপাতের ধারে সর্বক্ষণ খেলা করে। আর এইগুলি প্রতিদিন চোখে পড়তে পড়তে, একদিন তাঁর মাথায় একটা প্রশ্ন আসে, ‘সে তো স্কুলে যায়, কিন্তু ওরা কেন যায় না, কেন সারাক্ষণ খেলা করে রাস্তার ধারে!’ এছাড়াও রাস্তার ধারে সেই ছেলেমেয়েগুলিকে দেখেও তাঁর বড্ড কষ্ট হতো। তাই এক দিন তাঁর বাবাকে ডেকে প্রশ্নও করেছিলেন, ‘আচ্ছা বাবা, ওই ছেলেমেয়ে গুলো স্কুলে যায় না কেন?’

মেয়ের মুখে এই রকম প্রশ্ন শুনে তাঁর বাবা প্রথমে একটু অবাকই হয়েছিলেন। এবং তারপর সেই প্রশ্নের উত্তরে মেয়েকে বলেছিলেন, ‘এটা সমাজের একটা ছবি। এই ছবি যদি তুমি দেখতে না চাও তা হলে তোমাকে সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আর সেই পরিবর্তন আনতে গেলে সেই সিস্টেমের অংশ হতে হবে।’ আর তাঁর বাবার বলা এই পরামর্শই মেয়েটির জীবনের লক্ষ্য স্থির করে দিতে বাধ্য হয়েছিলো। আর যার ফলস্বরূপ এ বছরের ইউপিএসসি (UPSC)-র শীর্ষ স্থানাধিকারীদের মধ্যে এক জন তিনি। মেয়েটি দিল্লির বাসিন্দা অঙ্কিতা জৈন। অঙ্কিতার বাবা সুশীলকুমার জৈন পেশায় ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, এবং তাঁর মা অনিতা জৈন একজন গৃহিণী।

সূত্রের খবর, অঙ্কিতা এবার ইউপিএসসি (UPSC)-র তৃতীয় স্থানাধিকারী। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কারন জানা গেছে, এই পরিবারের ছোট মেয়ে বৈশালীও ইউপিএসসি (UPSC)-র পরীক্ষায় সফল হয়ে ২১তম স্থান অধিকার করেছে। সত্যিই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই একটি ঘটনা। দিল্লি শহরে একই পরিবার থেকে ইউপিএসসি পাশ করা দুই বোন। ২০১৬ সালে গেট পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকার করলে অঙ্কিতা এরপরই ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)-এ একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। তবে তারআগে তিনি বেঙ্গালুরুতে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।

তবে সেই চাকরি অঙ্কিতাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আর তাই পুনরায় ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। অবশেষে ২০২০ সালে সফল হয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। শুধু অঙ্কিতা একাই নন। তাঁর বোন বৈশালীও কোনও অংশে কম নন। জানা গেছে, তাঁর বোন বৈশালীও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে চাকরি করেন। এবং তাঁর বোন বৈশালী জানান, যে প্রথম দিন থেকে দিদিই ছিলো তাঁর একমাত্র অনুপ্রেরণা।

আরও পড়ুন: অবশেষে স্বপ্নপূরণ! ২৩ বছর ধরে ক্রমাগত ব্যর্থতা, ৫৫ বছরে এমএসসি পাশ করে তাক লাগালেন এই সিকিউরিটি গার্ড