সৌরভ বিদায়ে বড় ক্ষতির মুখে বিসিসিআই, হারাতে বসেছে কোটি কোটি টাকা

বিসিআই নতুন করে সাজা শুরু করে দিয়েছে। বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী ও বোর্ড সচিব জয় শাহর তিন বছরের কার্যকাল শেষের পর এবার নতুন করে সাজানো হবে ভারতীয় বোর্ডের প্রশাসনকে। রজার বিনির সভাপতিত্বে দল গঠনের কাজ প্রায় শেষের পথে। বর্তমান বোর্ডের প্রশাসনের মেয়াদ ফুরোলেই মাঠে নেমে পড়বে নতুন বোর্ড প্রশাসন। রজার বিনির এই নতুন বোর্ডের মেয়াদে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে ২০২৩ এর ওডিআই বিশ্বকাপ।

এই বিশ্বকাপ শুরু হতে দেরী আর একবছর, এর আগেই আগেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ড বিপুল অংকের লোকসানের মুখে পড়ল। এটি বলা চলে সৌরভ গাঙ্গুলীর বিদায়ে বিপুল ক্ষতির মুখ দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।ক্ষতির পরিমাণটা ঠিক কত তা জানতে এখনও সময় লাগবে। তবে আন্দাজ করা যাচ্ছে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়বে বোর্ড। বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড যেটি নিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে আছে।

২০২৩ এর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আয়োজিত হবে ওডিআই বিশ্বকাপ।২০১১ সালের মত ২০২৩ সালে ওডিআই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে ভারত। এটি দেশের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিকভাবে আয়োজন করতে না পারলে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নাক কাটবে। এই পরিস্থিতিতে বিসিসিআই এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ট্যাক্স ছাড়ের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাতিল হয়।

বোর্ডের ক্ষতি

দেশে কোনও ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারকে একটা ট্যাক্স দিতে হয়। এই ট্যাক্সের উপর ছাড় চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু কেন্দ্র সরকার তা খারিজ করে দেয়। এই ঘটনাটি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোকে। ক্ষতির পরিমাণ অনুমান ৫৮ থেকে ১১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিসিসিআই-এর চিঠিতে লেখা হয়, “এটা আপনাদের জানান যাচ্ছে যে আইসিসি-র থেকে প্রাপ্য টাকা থেকে আমাদের কর দিতে হবে,ফলে আইসিসি-র থেকে পাওয়া আয়ের অংশ কমবেশি হতে পারে।”

এই করের ছাড়পত্র বরাবরই একটা বড় ইস্যু ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বড় ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে। ২০১৬ সালে বিসিসিআই-এর প্রাপ্য থেকে আইসিসি ২৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেটে নিয়েছিল। কারণ ভারত সরকার সেই সময় আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের জন্য ১০.৯২% চার্জ করেছিল। কিন্তু আইসিসি কে বিসিসিআই নিশ্চিত করেছিল কর বাঁচানো যাবে বলে, এরফলে ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে নিয়ে যেতে ICC-র সাহায্য হবে। ২০১৪ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ভারত তিনটে আইসিসি ইভেন্ট পেয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২১ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ।

ভারত সরকার এবার ২১.৮৪% করের কথা বলেছে। যদি করের পরিমাণ সেটা হয় তাহলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ১১৬.৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। যদি ১০.৯২% হারে কর নেয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ হবে ৫৮.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এবার আইসিসির থেকে বিসিসিআই আয় বাবদ পাবে ৪০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থ থেকে কাটা যাবে ট্যাক্স এর পরিমাণ। যা বোর্ডের আয়ে বেশ বড় প্রভাব ফেলবে।