ম্যাচ হারালেও ইতিহাস গড়েছেন এমবাপ্পে! বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে তার ঝুলিতে এই রেকর্ড !!

ফ্রান্সের তরুণ খেলোয়াড় এমবাপ্পে পরপর দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করলেন সব থেকে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে। ২ মিনিটের মধ্যে ফাইনালে দুটি গোল করে তিনি এক রেকর্ড করেছেন। এরপর সব থেকে কম বয়সে অর্থাৎ দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে গোল করলেন যা বিশ্বের আর কোন ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪-২ ব্যবধানের জয়ে এমবাপ্পের এক গোল ছিল। আর আজ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তার হ্যাট্রিক গোল।

তিনি যেন দলকে একার কাঁধেই টানলেন। আর্জেন্টিনার হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ এমবাপ্পে প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। হ্যাট্রিক হয় বিশ্বকাপের ফাইনালে। দ্বিতীয়বার কোন ফুটবলার ফাইনালে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পরে এই কীর্তি করলেন। ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে তিনি অসাধারণ ফুটবল খেললেন। কিন্তু এইবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে খালি হাতে ফিরতে হলো। তবে খালি হাতে দল ফিরলেও এমবাপ্পে টুর্নামেন্টের নায়কের মর্যাদা পেলেন। এবারের বিশ্বকাপে তিনি সোনার বুট অর্জন করলেন আটটি গোল করে। সবথেকে কম বয়সে সোনার বুট দখলকারী তিনি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার।

এমবাপ্পে ম্যাচের প্রথমার্ধে তেমন ছাপ ফেলতে পারেনি। মাঠের প্রান্ত ধরে দৌড় তার প্রধান অস্ত্র। আর সেই দৌড় বন্ধ করার জন্য আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি মোলিনা ও ম্যাক অ্যালিস্টারকে দিয়ে আগে থেকেই ছক এঁটে রেখেছিলেন। হলে তিনি বারবার ধরা পড়ছিলেন। প্রথম অর্ধে এমবাপ্পে আর্জেন্টিনার বক্সে মাত্র একবার ঢুকতে পেরেছিলেন। এই সময় যদিও তার পায়ে খুব একটা বল আসেনি।

কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে খেলা যত করালো এমবাপ্পে তত ম্যাচে দাপট দেখাতে শুরু করল। নিজের পছন্দের জায়গায় খেলা শুরু করতেই তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন। ফ্রান্স পেনাল্টি পায় বক্সের মধ্যে ফাউল করায়। তিনি সেই সুযোগটা মিস করলেন না। তার দু মিনিট পরেই ফ্রান্সের হয়ে বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের দুরন্ত শটে দ্বিতীয় গোল করে এমবাপ্পে খেলায় সমতা ফেরান।

মেসির গোলে আর্জেন্টিনা আবার খেলার অ্যাডেড সময়ে এগিয়ে গেলে মনে করা হয়েছিল ফ্রান্সের হার নিশ্চিত। কিন্তু তখনো এমবাপ্পে হাল ছাড়েনি। গোলের লক্ষ্যে বক্সের বাইরে থেকে শট করলে বক্সের মধ্যে থাকা পারেদেসের হাতে লাগে বল এবং ফ্রান্স পেনাল্টি পায়। এমবাপ্পে গোল করার সুযোগ পেলেন আরো একবার। সেই গোলেই মেসিকে টোপকে তিনি বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি গোলের মালিক হন। তার গোল সংখ্যা গোটা টুর্নামেন্টে আট। এখানে ড্র হয় ম্যাচ এবং টাইব্রেকারের দিকে ফলাফল এগিয়ে যায়। অবশেষে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতে নেয়। যাইহোক, নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপেই এমবাপ্পে বিশ্বের সেরাদের তালিকায় ঢুকে পড়লেন।